অন-পেজ এসইও হলো সেই অংশ যা সম্পূর্ণ আপনার নিয়ন্ত্রণে। ব্যাকলিংকের জন্য অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়, কিন্তু নিচের চেকলিস্টের প্রতিটি জিনিস আপনি আজই ঠিক করতে পারেন।
১. একটি পেজ, একটি প্রধান কীওয়ার্ড
প্রতিটি পেজের জন্য একটি প্রধান কীওয়ার্ড ঠিক করুন এবং সেটিই টাইটেল, H1, URL ও প্রথম অনুচ্ছেদে স্বাভাবিকভাবে রাখুন। একই কীওয়ার্ডে দুটি পেজ থাকলে একটিকে অন্যটির দিকে রিডাইরেক্ট করুন।
২. টাইটেল ট্যাগ
৫০–৬০ অক্ষর, প্রধান কীওয়ার্ড শুরুর দিকে, শেষে ব্র্যান্ড নাম। মোবাইলে কেটে যাচ্ছে কি না তা প্রকাশের আগে যাচাই করে নিন।
৩. মেটা ডেসক্রিপশন
১৪০–১৬০ অক্ষর। এটি র্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর নয়, কিন্তু ক্লিক-থ্রু রেট বাড়ায়। প্রতিশ্রুতি + কারণ + কাজ — এই কাঠামো ভালো কাজ করে।
৪. URL
ছোট, পড়া যায় এমন, ইংরেজি অক্ষরে ট্রান্সলিটারেট করা। তারিখ বা আইডি নম্বর এড়িয়ে চলুন। বাংলা কনটেন্টের জন্য /bn/ ফোল্ডার ব্যবহার করুন, আলাদা ডোমেইন নয়।
৫. হেডিং কাঠামো
প্রতি পেজে একটি মাত্র H1, তারপর যৌক্তিক ক্রমে H2 ও H3। H2 গুলোকে প্রশ্ন আকারে লিখলে ফিচার্ড স্নিপেট ও এআই উত্তরে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৬. প্রথম অনুচ্ছেদে উত্তর
পাঠক বা এআই — কেউই স্ক্রল করে উত্তর খুঁজতে চায় না। পেজের মূল প্রশ্নের উত্তর প্রথম ৫০ শব্দের মধ্যেই দিয়ে দিন, তারপর বিস্তারিত।
৭. কনটেন্টের গভীরতা
শব্দসংখ্যা কোনো লক্ষ্য নয়, কিন্তু প্রশ্নটির সম্পূর্ণ উত্তর দেওয়া লক্ষ্য। প্রতিযোগীর প্রথম দশটি ফলাফলে যা যা আছে তার বাইরে অন্তত একটি বিষয় যোগ করুন — নিজের অভিজ্ঞতা, স্ক্রিনশট, বা স্থানীয় দাম।
৮. ইন্টারনাল লিংক
প্রতিটি নতুন পেজ থেকে অন্তত তিনটি প্রাসঙ্গিক পেজে লিংক দিন, এবং পুরোনো অন্তত দুটি পেজ থেকে নতুন পেজে লিংক ফিরিয়ে দিন। অ্যাঙ্কর টেক্সটে ‘এখানে ক্লিক করুন’ নয়, বিষয়ের নাম লিখুন।
৯. ইমেজ
WebP ফরম্যাট, ১৫০ কেবি-র নিচে, বর্ণনামূলক ফাইলনেম ও alt টেক্সট। ফোল্ডের নিচের ছবিতে loading="lazy" দিন, কিন্তু সবচেয়ে বড় হিরো ছবিতে নয় — ওটি LCP নষ্ট করে।
১০. স্কিমা মার্কআপ
ব্লগ পোস্টে Article, প্রশ্নোত্তর থাকলে FAQPage, ধাপভিত্তিক গাইডে HowTo, সার্ভিস পেজে Service, এবং সব পেজে BreadcrumbList। প্রকাশের আগে Rich Results Test-এ যাচাই করুন।
১১. পেজ স্পিড ও Core Web Vitals
LCP ২.৫ সেকেন্ডের নিচে, INP ২০০ মিলিসেকেন্ডের নিচে, CLS ০.১-এর নিচে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ভিজিটর মোবাইল ডেটায় আসেন, তাই 4G-তে পরীক্ষা করুন, ওয়াই-ফাইয়ে নয়।
১২. মোবাইল অভিজ্ঞতা
ফন্ট ১৬ পিক্সেলের নিচে নয়, ট্যাপ টার্গেট ৪৪ পিক্সেলের কম নয়, এবং পপআপ যেন কনটেন্ট ঢেকে না দেয়।
১৩. ইনডেক্সেবিলিটি
পেজটি robots.txt-এ ব্লকড নয়, noindex ট্যাগ নেই, ক্যানোনিক্যাল নিজের দিকেই, এবং সাইটম্যাপে আছে — প্রকাশের পর Search Console-এর URL Inspection দিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
১৪. হালনাগাদের তারিখ
পেজে দৃশ্যমান ‘সর্বশেষ হালনাগাদ’ তারিখ রাখুন এবং স্কিমার dateModified-এর সঙ্গে মিল রাখুন। এআই অ্যানসার ইঞ্জিন পুরোনো তারিখের পেজ কম উদ্ধৃত করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
অন-পেজ এসইও কী?
অন-পেজ এসইও হলো একটি ওয়েবপেজের ভেতরের যেসব উপাদান আপনি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন — টাইটেল ট্যাগ, হেডিং, কনটেন্ট, URL, ইন্টারনাল লিংক, ইমেজ, স্কিমা ও পেজ স্পিড — সেগুলো সার্চ ইঞ্জিন ও পাঠকের জন্য অপটিমাইজ করা।
টাইটেল ট্যাগ কত অক্ষরের হওয়া উচিত?
৫০–৬০ অক্ষরের মধ্যে রাখুন যাতে গুগল সার্চ রেজাল্টে কেটে না যায়। প্রধান কীওয়ার্ড শুরুর দিকে রাখুন এবং শেষে ব্র্যান্ড নাম যোগ করুন।
একটি পেজে কতগুলো H1 থাকা উচিত?
একটি। H1 পেজের মূল বিষয় নির্দেশ করে; একাধিক H1 থাকলে সংকেত দুর্বল হয়। বাকি অংশ H2 ও H3 দিয়ে যৌক্তিক ক্রমে সাজান।
কনটেন্ট কত শব্দের হওয়া উচিত?
নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। প্রশ্নটির সম্পূর্ণ উত্তর দেওয়াই মাপকাঠি। প্রথম দশটি ফলাফল দেখে বুঝে নিন কী কী বিষয় আবশ্যক, তারপর নিজের অভিজ্ঞতা বা স্থানীয় ডেটা দিয়ে বাড়তি কিছু যোগ করুন।
স্কিমা মার্কআপ কি বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক নয়, তবে অত্যন্ত কার্যকর। FAQPage, Article ও BreadcrumbList স্কিমা রিচ রেজাল্টের সুযোগ বাড়ায় এবং এআই অ্যানসার ইঞ্জিনের জন্য কনটেন্ট সহজে পাঠযোগ্য করে তোলে।
